পুলিশের একপাক্ষিক তদন্তের অভিযোগ: সাংবাদিকসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন

পুলিশের একপাক্ষিক তদন্তের অভিযোগ: সাংবাদিকসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন

উপজেলা প্রতিনিধি,ফুলগাজী | ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫ইং

 ​ফেনীর ফুলগাজীতে এক চিকিৎসকের বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করে সাংবাদিকসহ ৫ জনকে অভিযুক্ত করে পুলিশ আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পুলিশের এই প্রতিবেদনকে 'একপাক্ষিক' ও 'উদ্দেশ্যপ্রণোদিত' হিসেবে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা। আজ মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) এই মামলার আসামিদের ফেনী আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
​গত বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর ফুলগাজীর আমজাদহাটের ধর্মপুর এডুকেশনাল এস্টেট বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক জসিম উদ্দিনের অনিয়ম-দুর্নীতি নিয়ে এক জরুরি সভা চলাকালীন বাকবিতণ্ডা ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় বিদ্যালয়ের ট্রেড ইনস্ট্রাক্টর সাইফ উদ্দিন এবং তার মা ফেরদৌস আরা বেগম বাদী হয়ে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেন।

​মামলায় সাংবাদিক সাজ্জাদ রাকিবসহ মোট ৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। অন্য আসামিরা হলেন ​প্রধান শিক্ষক জসিম উদ্দিন ​ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেন ​সহকারী শিক্ষক আব্দুল লতিফ খন্দকার ​মাস্টার শহীদ উল্লাহ এবং অন্যান্য।

​​মো. জসিম উদ্দিনের অনিয়ম-দুর্নীতির ব্যাপারে পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও ফুলগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে গত বছরের ৩ সেপ্টেম্বর কারিগরি শাখার ট্রেড ইন্সট্রাক্টর সাইফ উদ্দিন একটি অভিযোগ করেন। তারই প্রেক্ষিতে প্রধান শিক্ষক ১৫ সেপ্টেম্বর এ ব্যাপারে একটি জরুরি সভার আয়োজন করে। যেখানে একপর্যায়ে সাইফ উদ্দিনকে মারধর করা হয়। পরে তার মা ফেরদৌস আরা ছেলের কাছে যেতে চাইলে পথিমধ্যে আসামিরা তার চুলের মুঠি ধরে মারধর করতে করতে রাস্তায় শোয়াই ফেলে।

 এ ঘটনায় আসামি হিসেবে একটি মামলায় ৮ জন ও অন্যটিতে ৪ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পরবর্তীতে ফুলগাজী থানার উপপরিদর্শক মাসুদ আলমকে দুটি মামলা তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। চলতি বছরের ১৩ মার্চ একটি মামলায় সকল আসামির কোনো সম্পৃক্ততা নেই মর্মে তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করলেও অন্যটিতে সাংবাদিক সাজ্জাদ রাকিব, ধর্মপুর এডুকেশনাল এস্টেটের প্রধান শিক্ষক জসিম উদ্দিন, আমজাদহাট বাজারের ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেনসহ পাঁচ আসামিকে অভিযুক্ত করে তদন্ত প্রতিবেদন দেন উপপরিদর্শক মাসুদ আলম। 

এই মামলার বাদী সাইফ উদ্দিন ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছে।
​এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক জসিম উদ্দিন ফেনীর প্রান্তর'কে জানান, ফুলগাজী থানা পুলিশের উপপরিদর্শক মাসুদ আলম সিসিটিভির ফুটেজে নিজের চোখে দেখেছেন স্কুলে সেদিন হাতাহাতি-মারামারির কোনো ঘটনা ঘটেনি। ভুয়া একটি মেডিকেল রিপোর্টের ভিত্তিতে অনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে শিক্ষক, সাংবাদিক, ব্যবসায়ীদের আসামি করে তদন্ত প্রতিবেদন দিয়েছে। যা খুবই দুঃখজনক।

​ফুলগাজী থানার উপপরিদর্শক মাসুদ আলম বলেন, চিকিৎসকের বক্তব্য ও সাক্ষীদের বর্ণনা অনুযায়ী প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা বিনা পয়সায় রিপোর্ট দিয়েছি। এখানে কোনো ধরনের প্ররোচনা বা প্রভাবিত হওয়ার সুযোগ নেই।

​এ প্রসঙ্গে মামলায় আসামি হওয়া সাংবাদিক সাজ্জাদ রাকিব বলেন, পুলিশের পক্ষ থেকে শুধু আমার এনআইডি কার্ড নেওয়া হয়েছে। আমি সেখানে ছিলাম কিনা বা এরকম কোনো ঘটনা ঘটেছে কিনা তা জানতেও চাননি। স্কুলের চারপাশে ১০টির অধিক সিসি ক্যামেরা ছিল, সেই ফুটেজ যাচাই করলেই বুঝতে পারবে আমি সেখানে কেন গিয়েছি বা কী করেছি। 

ফুলগাজী থানা পুলিশের উপপরিদর্শক মাসুদ আলম উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে আমাকে অভিযুক্ত করেছেন। সংবাদ সংগ্রহে যাওয়ার কারণে এমন হয়রানি কখনো কাম্য নয়। উল্লেখ্য, গত বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর ধর্মপুর এডুকেশনাল এস্টেটের কয়েকজন ছাত্র সাংবাদিক সাজ্জাদকে প্রধান শিক্ষক জসিম উদ্দিনের দুর্নীতি-অনিয়মের একটি পোস্টার পাঠিয়ে এ ব্যাপারে সংবাদ প্রকাশের অনুরোধ করেন। পরেরদিন সকাল ১০টায় এ বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের জন্য বিদ্যালয়ে যান তিনি। তখন বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য, শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গদের নিয়ে একটি মতবিনিময় সভা চলছিল। পরে সভায় অংশ নিয়ে প্রধান শিক্ষক জসিম উদ্দিনের দুর্নীতি-অনিয়মের পোস্টার তৈরিকারী শিক্ষক সাইফ উদ্দিনের কাছে পোস্টারে উল্লেখিত অভিযোগের প্রমাণপত্রসহ তথ্যাদি চান। 

একপর্যায়ে সাইফ উদ্দিন প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের কোন প্রমাণপত্র দেখাতে না পেরে উল্টো সাংবাদিকের ওপর ক্ষুব্ধ হন। পরে এ সংবাদ ঠেকাতে প্রতিষ্ঠানের সহকারী শিক্ষক আবদুল লতিফ খন্দকার, মাস্টার শহীদ উল্লাহ, সাইফ উদ্দিন, জয়নাল আবেদীন, কহিনুরসহ আরও কয়েকজন শিক্ষক তৎপর হয়ে উঠেন। পরবর্তীতে সাইফ উদ্দিন ও তার মাকে বাদী করে দুইটি মামলা করেন।

মন্তব্যসমূহ