সিলোনিয়া নদীতে পানি নিষ্কাশনে বাধা: ঝুঁকিতে হাজারো মানুষের জীবিকা ও নদীবাঁধ

সিলোনিয়া নদীতে পানি নিষ্কাশনে বাধা: ঝুঁকিতে হাজারো মানুষের জীবিকা ও নদীবাঁধ
Published from Blogger Prime Android App
 আদর পাটোয়ারী, ফুলগাজীঃ

 ফেনী জেলার ফুলগাজী উপজেলার মুন্সিরহাট ইউনিয়নের সিলোনিয়া নদীতে গাছপালা ও ঝোপঝাড় জমে থাকার কারণে পানির স্বাভাবিক প্রবাহে মারাত্মক বাধা সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে জামমুডা ব্রিজ থেকে বালুয়া গ্রাম পর্যন্ত নদীর তীরবর্তী এলাকায় বাঁধ ভাঙন এবং হাজারো মানুষের জীবন-জীবিকা ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
 দীর্ঘদিন ধরে নদীভাঙন ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকিতে থাকা এ অঞ্চলের মানুষের জন্য নদীর এই বেহাল দশা এখন বড় উদ্বেগের কারণ। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কমুয়া, বালুয়া, তারালিয়া, নোয়াপুর ও মুন্সিরহাট বাজারের মানুষ দৈনন্দিন চলাচলের জন্য সিলোনিয়া নদীর বেড়িবাঁধ ব্যবহার করে থাকে।

  প্রতিবন্ধকতায় বাড়ছে ঝুঁকি
 স্থানীয়দের অভিযোগ, জামমুডা ব্রিজের উত্তর পাশে সিলোনিয়া নদীর দুই তীরে পড়ে থাকা বড় বড় গাছপালা ও ঝোপঝাড় পানির স্বাভাবিক প্রবাহে বাধা দিচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কিছু অসাধু ব্যক্তির মাছ ধরার জন্য নদীতে বসানো বড় বড় জাল, যা পানি নিষ্কাশনে আরও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে।

 ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের উজানে অতিবৃষ্টি হলে মুহুরি ও ছিলোনিয়া নদী দিয়ে প্রবল স্রোতের পানি বাংলাদেশে প্রবেশ করে। এই সময় নদীর পাড়ে জমে থাকা গাছপালা ও জালগুলো পানির প্রবাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটায়। এতে পানির চাপ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গিয়ে নদীর বাঁধ ভাঙনের আশঙ্কা সৃষ্টি হয়।

  ঝুঁকিপূর্ণ অংশ চিহ্নিত
 এলাকাবাসীর মতে, শুকনো মৌসুমে নদীর পানি কম থাকায় সমস্যাটি তেমনভাবে চোখে না পড়লেও, আসন্ন বর্ষা মৌসুমে এর ভয়াবহ পরিণতি হতে পারে। তারা জানান, বিশেষ করে জামমুডা ব্রিজ থেকে বালুয়া গ্রাম পর্যন্ত অংশটি সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ।
 বরকত উল্লাহ গ্রামের হাজী আব্দুল মান্নান উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, "প্রতি বছর বর্ষায় এই নদীর পানি উপচে পড়ে গ্রামের ভেতরে ঢোকে। এবার যদি আগাম ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে বড় ধরনের ক্ষতি হবে।"

 দ্রুত পদক্ষেপের দাবি
 পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হওয়ায় নদীর আশপাশের কৃষিজমি ও বসতবাড়িও হুমকির মুখে পড়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সমাজকর্মীরা মনে করেন, শুকনো মৌসুমই নদীর গাছপালা পরিষ্কার ও বাধা অপসারণের উপযুক্ত সময়।
 এলাকাবাসীর জোরালো দাবি, এখনই যদি নদীতে পড়ে থাকা গাছপালা সরিয়ে পানি নিষ্কাশনের পথ উন্মুক্ত করা না হয়, তাহলে আগামী বর্ষা মৌসুমে ফেনী জেলার উত্তরাঞ্চলে কয়েকটি ইউনিয়নের মানুষ ভয়াবহ বন্যা ও ভাঙনের মুখোমুখি হতে পারে। তারা দ্রুত নদীর তীর সংস্কার ও গাছ অপসারণে প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেছেন

মন্তব্যসমূহ