হিজাব নিয়ে কটাক্ষ, অশালীন ভাষায় গালি সহ নানা অভিযোগ ফেনী সরকারি কলেজের শিক্ষক বিপ্লব কুমারের বিরুদ্ধে।
হিজাব নিয়ে কটাক্ষ, অশালীন ভাষায় গালি সহ নানা অভিযোগ ফেনী সরকারি কলেজের শিক্ষক বিপ্লব কুমারের বিরুদ্ধে।

আনোয়ার হোসাইন:
হিজাব নিয়ে কটাক্ষ, শিক্ষার্থীদেরকে বিভিন্ন সময়ে অশালীন ভাষায় গালাগালি সহ নানা অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে ফেনী সরকারি কলেজের প্রানীবিদ্যা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান বিপ্লব কুমার শীল।
রবিবার (২৩ নভেম্বর) ফেনী সরকারি কলেজের ইংরেজী বিভাগের ফাতেমা আয়মান রুহি নামের এক নারী শিক্ষার্থীর ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে শুরু হয় ব্যাপক চাঞ্চল্য।
পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন-
টিউশন শেষে হলে ফেরার পথে প্রাণীবিদ্যা বিভাগের প্রধান বিপ্লব কুমার শীল তাকে ডেকে তার পরিচয় জানতে চান এবং পরে পরোক্ষভাবে তার হিজাব ও পর্দা নিয়ে কটু মন্তব্য করেন। এতে তিনি আপত্তি জানালে অভিযুক্ত বিপ্লব বিষয়টি এড়িয়ে যেতে চান।
ঘটনাটি তাকে বিরক্ত ও অপমানিত করে। তিনি প্রশ্ন তোলেন—একজন শিক্ষক কি ছাত্রীর সৌন্দর্য বা পোশাক নিয়ে মন্তব্য করার অধিকার রাখেন? হিজাব বা বোরকা পরলেই কেন এমন আচরণ করা হয়?
মুহুর্তেই ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর ঐ পোস্ট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। একে একে বেরিয়ে আসে আরো বেশ কিছু তথ্য। সেই পোস্টের মন্তব্যের ঘরে এমন অনেক ভুক্তভোগী তাদের সাথে একই শিক্ষকের অসদাচরণ, দূর্ব্যবহার, হিজাব ও পর্দা নিয়ে কটাক্ষ এবং অশালীন গালিগালাজের অভিযোগ তুলেন।
১।
আমাদের কলেজে তখন ইয়ার ফাইনাল পরীক্ষা চলছে। আমি সেদিন একটু অসুস্থ ছিলাম, পড়ে গিয়ে ব্যথা পেয়েছিলাম বলে ঠিকভাবে হাঁটতেও পারছিলাম না। আমি এক্সট্রা পেজ নেয়ার জন্য সিট থেকে উঠে সামনে গিয়েছিলাম। এক্সট্রা পেজ নিয়ে যখন নিজের সিটে ফিরছি, তখন ডিউটিরত বিপ্লব কুমার শীল আমাকে জিজ্ঞেস করে যে “এভাবে হাঁটছিস কেন? কী সমস্যা তোর?” স্বাভাবিকভাবেই আমি উত্তর দিলাম, “আমি একটু অসুস্থ স্যার”। এটা বলে আমি আমার সিটে চলে আসছিলাম। উনি তখন আমার উদ্দেশ্যে খুব বাজে ধরনের একটা মন্তব্য করে। বলে যে, "সারাদিন নাং নিয়ে ঘুরলে এরকম তো হবেই"।
২।
আমাদের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থীদের সাথেও উনি এমন করতেন, মেয়েরা মাস্ক পরলে সেটাও টেনে খুলে ফেলতেন।
৩।
একজন শিক্ষক হিসেবে উনার ভাষার ব্যবহার খুবই জঘন্য!
ছেলেদেরকে যেমন কটাক্ষ করে কথা বলেন তেমনি মেয়েদের হিজাব, বডি ফিগার এসব নিয়েও উনি কথা বলেন!
তারপর মাস্ক/নিকাব পরে থাকলে উনার কটাক্ষ করে কথা বলার শেষ নেই! একটা মেয়ে ক্লাসরুমে মুখ দেখাবে নাকি দেখাবে এটা তার ব্যাক্তিগত ব্যাপার!
কিন্তু উনার এটা সহ্য হয় না!কারণ মেয়েদের চেহারার দিকে তাকিয়ে থাকতে উনার ভালোই লাগে তাই জোর করেও মেয়েদের মাস্ক/নিকাব খুলাতে চায় অনেক রকমের কথা শুনায়!
একটা মেয়ে ২০/২৫ বছর বয়সে মা হয়ে ফিগার নষ্ট করে, তাকে দেখতে ভালো লাগে না, সৌন্দর্ঘ থাকে না এটা সেটা বলেও উনি ক্লাসরুমের পরিবেশ নষ্ট করে! এরপর উনার প্রেমালাপ, রোমান্টিক কথা, জীবন যৌবন নিয়েও কথার শেষ নেই!
এগুলা কী ক্লাসরুমে এসে উনার পাঠ্যদানের বিষয়াবলি!?
আমি নিজেও এমন সিচুয়েশনে পড়েছি! আমাকে দেখে উনি নানারকম প্রশ্নবিদ্ধ করতে শুরু করেছিলেন যেনো সেদিন ক্লাসরুমে মূল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুই আমি ছিলাম।
আমার পরিবারের মানুষজন দেখতে কেমন! আমার বাবার গায়ের রং কেমন! মা দেখতে কেমন, সব রকম প্রশ্নই উনি করেছিলেন! তারপর আমার বয়স জিজ্ঞেস করে জানতে চেয়েছিলেন আমি কি পরিবারের বড় মেয়ে কিনা, দেখতে কার মতো হয়েছি।আমি উনার
প্রশ্নকে সহজ ভাবে নিতে পারেনি যথেষ্ট আনকম্ফোটেবলে ছিলাম কারণ উনার প্রশ্ন গুলো মোটেও স্বাভাবিক ভাবে জিজ্ঞেস করা ছিলো না!
আমার কাছ থেকে আশানুরূপ উত্তর না পেয়ে উনি নিজেই বলতে শুরু করেন, "আমি নিশ্চয় আমার মায়ের মতো হয়েছি তোমার মা
দেখতেও সুন্দর এখনো ছেলেরা নিশ্চয়ই তোমার আর তোমার মাকে দেখে তোমার আগে তোমার মাকেই প্রেমের প্রস্তাব পাঠায় আরো অনেক কথা!
এই বয়সেও তোমার মা অনেক ইয়াং এটা সেটা উনি বলতেই আছেন.. ক্লাসে সেদিন অনেক স্টুডেন্টই ছিলেন!
তারপর আমার পরিবারের ছেলেরা আমাকে নিশ্চয় বিয়ের প্রস্তাব দেন প্রতিনিয়ত এমন আরো অনেক কথাই বলেছিলেন যেগুলো আর বলতে চাচ্ছি না এখানে..
৪।
উনি আমাদের ব্যাচের মেয়েদের সাথেও করেছে এসব -
বলেছিল এরকম পর্দা করলে বিশ্ববিদ্যালয়ে কিংবা মেডিকেল ইন্জিনিয়ারিং পড়ার দরকার নেই
ক্লাসে অনেক বাজে ব্যবহার করতো
৫।
এই স্যারটা মেয়েদের হিজাব নিয়ে খুবই বাজে ভাবে কথা বলে এক্সাম দিতে গিয়ে খুবই বাজে অভিজ্ঞতা হয়েছে উনার মুখের ভাষা খুবই খারাপ উনি একটা মেয়েকে এভাবেও বলেছে যে বেশি পর্দা করতে মন চাইলে বাসায় বসে থাকবি পড়ালেখা করা ছেড়ে দে।
৬।
এই স্যারের ব্যবহার তো খারাপই আর হিজাব পরলেই ওনার আরও সমস্যা। আমাকে বলছে বোরকা এবং হিজাব কেন পরি, এসব পরলে ক্ষেত লাগে। স্মার্ট হয়ে চলাফেরা করতে বলছিলো। ওনার মতে বেপর্দায় থাকলেই স্মার্ট
এই শিক্ষককে আইনের আওতায় আনা অতি জরুরি। যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি এই শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবসহা নেওয়ার জন্য।
উত্তরমুছুনসত্যতা নিশ্চিত করে কঠিন থেকে কঠিন তম বিচার হোক
উত্তরমুছুন